রাসেল মোল্লা, কলাপাড়া (পটুয়াখালী):
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দর-সংলগ্ন আন্ধারমানিক নদীর ওপর নির্মাণাধীন চার লেনের সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি চালু হলে পায়রা বন্দরের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা এবং বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রায় ১ হাজার ১৮০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালের সঙ্গে নির্মাণাধীন ৬ লেনের ৬ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের মাধ্যমে যুক্ত হবে। পরবর্তী সময়ে এই সড়ক করিডর ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আন্ধারমানিক নদীর নাব্যতা ও নৌযান চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেতুটি এক্সট্রা-ডোজড ক্যাবল সেতু প্রযুক্তিতে নির্মাণ করা হচ্ছে। নদীর ওপর নৌযান চলাচলে যাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সেতুটিতে রাখা হয়েছে মাত্র দুটি প্রধান পিলার। ২০২৪ সালের ১২ মার্চ সেতুটির পাইলিং কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা। প্রকল্পের নির্মাণকাজে চীনের China Railway Bridge Construction Group (CRBC) এবং China Civil Engineering Construction Corporation (CCECC) যুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি কোরিয়ান একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ পরিচালনার কথা জানানো হয়েছে।
সেতুটির সঙ্গে নির্মিত হচ্ছে ৬ লেনের ৬ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক। চার লেনের সেতু ও এই সংযোগ সড়ক চালু হলে পায়রা বন্দরের পণ্য পরিবহনের জন্য একটি আধুনিক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক করিডর গড়ে উঠবে। এতে বন্দরে আসা-যাওয়া করা পণ্যবাহী যানবাহনের সময় কমার পাশাপাশি ভারী যানবাহন চলাচল আরও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সেতুটি চালু হলে পায়রা বন্দরকেন্দ্রিক পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পণ্য পরিবহন আরও গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি পায়রা বন্দরের বাণিজ্যিক সক্ষমতা কাজে লাগানোর সুযোগও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের মধ্যে সেতু নির্মাণকে ঘিরে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু উদ্বেগও রয়েছে। তাদের দাবি, একই নদীতে পরপর তিনটি সেতু নির্মাণের ফলে ভবিষ্যতে আন্ধারমানিক নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা ও নৌযান চলাচলে কোনো ধরনের প্রভাব পড়ে কি না, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) তাজহার কবির জানান, সেতুটির মূল অবকাঠামোর প্রায় ৯৪ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক নির্মাণকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, “আশা করছি, অক্টোবরের শেষ নাগাদ সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হবে।”সেতুটি চালু হলে শুধু পায়রা বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, কলাপাড়া ও দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন স্থানীয়দের অপেক্ষা—কবে খুলবে বহুল প্রত্যাশিত এই সেতুর দুয়ার।




