অব্যবস্থাপনার অভিযোগে কুয়াকাটা বিচ ম্যারাথন, পর্যটন কার্নিভালে হতাশ অংশগ্রহণকারীরা

রাসেল মোল্লা,কলাপাড়াঃ দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দীর্ঘ নয় বছর পর আয়োজিত পর্যটন কার্নিভাল ঘিরে পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তবে উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ বিচ ম্যারাথনসহ বিভিন্ন আয়োজনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বেশ কিছু অংশগ্রহণকারী। তাঁদের অভিযোগ, প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা ও সেবা না পাওয়ায় কার্নিভালের আনন্দের পাশাপাশি নানা ভোগান্তিরও মুখোমুখি হতে হয়েছে।

২৩ ও ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আয়োজিত কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভালকে কেন্দ্র করে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়ে। পর্যটনশিল্পের প্রসার, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে গতিশীলতা সৃষ্টি এবং কুয়াকাটাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা ছিল সংশ্লিষ্টদের।

তবে কার্নিভালের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া অনেকের অভিযোগ, আয়োজনের প্রচার-প্রচারণার সঙ্গে বাস্তব ব্যবস্থাপনার কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশার ঘাটতি ছিল। বিশেষ করে বিচ ম্যারাথনের ব্যবস্থাপনা, অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং সার্বিক সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

অংশগ্রহণকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বড় পর্যটন আয়োজন সফল করতে শুধু প্রচার-প্রচারণা কিংবা দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; বরং অংশগ্রহণকারীদের নিবন্ধন, তথ্য সরবরাহ, নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় সেবা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করা জরুরি। এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলে আয়োজনের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা ব্যাহত হয় এবং পর্যটকদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

কার্নিভালকে ঘিরে নিবন্ধন করেও প্রত্যাশিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। কয়েকজন অংশগ্রহণকারীর দাবি, প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা পেতে তাঁদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফলে আয়োজন নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি পূরণ হয়নি বলে তাঁরা মনে করছেন।

বিচ ম্যারাথনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নঃ

বিচ ম্যারাথন ছিল কার্নিভালের অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন। সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে এমন একটি আয়োজন কুয়াকাটার পর্যটনকে নতুনভাবে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে ম্যারাথনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ আয়োজনটির সার্বিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনার অবকাশ তৈরি করেছে।

অংশগ্রহণকারীদের মতে, এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা, সময়সূচি সম্পর্কে আগাম তথ্য, নিবন্ধন-সংক্রান্ত সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে সমন্বয়ের অভাব থাকলে অংশগ্রহণকারীরা বিড়ম্বনায় পড়েন। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনের আগে প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

পর্যটনশিল্পের বিকাশে প্রয়োজন সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাঃ

কুয়াকাটা শুধু একটি সমুদ্রসৈকত নয়; এটি দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন অর্থনীতির অন্যতম সম্ভাবনাময় কেন্দ্র। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা এখানে ঘুরতে আসেন। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব আয়োজনের সফলতা নির্ভর করে পরিকল্পনা, সমন্বয়, নিরাপত্তা এবং অংশগ্রহণকারীদের সন্তুষ্টির ওপর।

পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। নিবন্ধন থেকে শুরু করে অনুষ্ঠানস্থলে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা প্রদান পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত সমাধানের কার্যকর ব্যবস্থাও থাকা দরকার।

আয়োজকদের বক্তব্য প্রত্যাশিতঃ

অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগের বিষয়ে আয়োজক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল স্থানীয় পর্যটনশিল্পের জন্য একটি সম্ভাবনাময় আয়োজন। তাই অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা ও সংশোধনী উদ্যোগ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও সুশৃঙ্খল, অংশগ্রহণবান্ধব ও সফল আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *