ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক চুন্নু বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া জনতার প্রশ্ন

রাসেল মোল্লা কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানাকে সংগঠনের সব পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সাংগঠনিক শাস্তির ক্ষেত্রে সমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ এক বিজ্ঞপ্তিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও মাসুদ রানাকে বহিষ্কারের কথা জানায়। তাঁদের বিরুদ্ধে মহিপুরে এক ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। তবে অভিযুক্ত দুই নেতা অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি অনুসন্ধান করছে।

অন্যদিকে, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নুর বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক শিশু ও তার মাকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর পটুয়াখালী জেলা বিএনপি তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। নোটিশে অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে এবং কেন তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে প্রশ্ন—একই ধরনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও মূল দলের একজন দায়িত্বশীল নেতার ক্ষেত্রে কেন এখনো একই ধরনের চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?
তবে দুই ঘটনার অভিযোগ, প্রক্রিয়া ও সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষ এক নয়। ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সরাসরি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে হাফিজুর রহমান চুন্নুর বিষয়ে জেলা বিএনপি প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে তাঁর বক্তব্য চেয়েছে। ফলে দুই ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পার্থক্যের কারণ সংশ্লিষ্ট দলীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের কেউ কেউ মনে করছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে পদমর্যাদা নির্বিশেষে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং একই ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করা প্রয়োজন। তবে সংশ্লিষ্ট দলীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়া শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বৈষম্য হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *