রাসেল মোল্লা, কলাপাড়া: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মঙ্গসুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুস সাকিব খান কনা’র বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাব এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক।
তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের অনুকূলে ‘এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি’ স্থায়ী গৃহ নির্মাণ খাতে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ওই অর্থ বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় না করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
এ ছাড়া বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার না করা, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পরীক্ষার ফি ও ভর্তি ফি বাবদ টাকা আদায় এবং বিদ্যালয়ে অবৈধভাবে প্রাইভেট বাণিজ্য পরিচালনাসহ মোট ১০টি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং তাঁদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অভিযোগপত্রে দুই শতাধিক অভিভাবকের স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিভাবকদের প্রশ্ন, এত অভিযোগ ওঠার পরও কীভাবে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন? অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
অভিভাবকদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক নাজমুস সাকিব খানকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক নাজমুস সাকিব খান কনা বলেন, একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। তারা আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ দাখিল করেছে। অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাহিদা বেগম বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি জেলা ও বিভাগীয় উপপরিচালককে জানানো হয়েছে অভিভাবকদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগপত্রগুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।আশা করছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি তদন্ত দল আসবে।




