মির্জাগঞ্জে প্রতিবন্ধীদের পাশে প্রশাসন, পেয়েছে দোকানঘর

উপজেলা প্রতিনিধি,( মির্জাগঞ্জ)পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মোঃ তরিকুল ইসলাম টিউমারে আক্রান্ত সিমা আক্তার ও প্রতিবন্ধী নগেন দেবনাথের হাতে মালামালসহ দোকানের চাবি তুলে দেন।

সিমা আক্তার (২৭) উপজেলার ছৈলাবুনিয়া গ্রামের হাবিব আকনের মেয়ে ও নগেন দেবনাথ  মির্জাগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা। তারা দুজনই এখন শারীরিক প্রতিবন্ধী।

সিমা আক্তার বলেন, সাত বছর বয়সে আমার সমস্ত শরীরে টিউমার দেখা দেয়। আর্থিক সংকটের কারণে  চিকিৎসা নিতে পারেনি। সাত বছর আগে স্ট্রোক করে বাবা মারা যান। একটিমাত্র ভাই সেও প্রতিবন্ধী। মা অন্যের বাসায় কাজ করে। পেট ভরে তিন বেলা ভাত খেতে পারি না। কিছুদিন আগে আর্থিক সাহায্যের জন্য ইউএনও স্যারের কাছে গেছিলাম । স্যার আমার শরীরের টিউমারের অবস্থা দেখে পরিবারের খোঁজখবর নেন। এরপর বাড়ির কাছে সড়কের পাশে  চা বিক্রির জন্য একটি দোকান ঘর তুলে দেন। গতকাল দোকানের মালামাল কিনে  দিয়েছেন। ওই দোকানে এখন আমি চা বিক্রি করি।

তিনি আরো বলেন, দোকানে মুদি মনোহরি মালামাল তুলতে পারলে বেচাকেন আরো ভালো হতো।কিন্তু সে টাকা আমাদের নেই।

প্রতিবন্ধী নগেন দেবনাথ বলেন, জন্ম থেকেই তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী।  ইয়ারউদ্দিন খলিফা সাহেব(র.)  মাজার সংলগ্ন গেটের পাশে একটি যাত্রী ছাউনিতে  চা বিক্রি করেন। কিন্তু দোকানে কোন মালামাল ছিল না। ইউএনও স্যার বিষয়টি জানতে পেরে গতকালকে তার দোকানে মালামাল কিনে দিয়েছেন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভিক্ষুক পুনর্বাসন ফান্ডের মাধ্যমে সিমা আক্তারকে একটি চায়ের দোকান ও নগেন দেবনাথকে দোকানের মালামালের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে অসহায় প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, সিমা আক্তারের সমস্ত শরীরে  টিউমার। কয়েকদিন আগে তিনি আমার কাছে সাহায্যের জন্য এসেছিলেন। খোঁজখবর নিয়ে জানলাম মেয়েটি এতিম। এক ভাই তাও প্রতিবন্ধী। মা অন্যের বাসায় কাজ করে। ভাবলাম তার জন্য স্থায়ী কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় কিনা। সমাজ সেবা কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে ভিক্ষুক পুনর্বাসন ফান্ডের অর্থায়নে  তার জন্য একটি চায়ের দোকানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সব সময় প্রতিবন্ধীদের পাশে আছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *