পটুয়াখালীতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারণায় হামলায় মামলা; আ’লীগ সভাপতিসহ তিনজন কারাগারে

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালীতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণায়  হামলা মামলায় আওয়ামীলীগ সভাপতিসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

কারাগারে পাঠানো ৩ নেতা হলেন –  মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমান লাভলু ও তার ছোট ভাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মশিউর রহমান বাবলু এবং তাঁদের চাচাতো ভাই রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী মনিরুজ্জামান।

গতকাল রবিবার মির্জাগঞ্জ  জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করলে বিচারক মো. আল আমিন তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

মির্জাগঞ্জ আদালতের সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডডভোকেট মোঃ তরিকুল ইসলাম  ও কোর্ট সাব ইন্সপেক্টর উত্তম কুমার পাল এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।  তাঁরা আজকের পত্রিকাকে বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর মির্জাগঞ্জ থানার একটি জিআর মামলায় কাজী মিজানুর রহমান লাভলু এজাহারভুক্ত ১ নম্বর ও কাজী মশিউর রহমান বাবলু ২ নম্বর  এবং কাজী মনিরুজ্জামান ৩ নম্বর আসামি। মামলা নম্বর ৯৮ / ২৪। এর আগে তাঁরা এই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন।

কাজী মিজানুর রহমান লাভলু মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, কাজী মশিউর রহমান বাবলু মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তাঁদের পিতা মরহুম কাজী মোখলেসুর রহমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

আরেকজন  কাজী মনিরুজ্জামান রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক।  তাঁরা তিনজনই উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী পটুয়াখালী -১ আসনে (পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ, দুমকি) ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। আলতাফ হোসেন চৌধুরীর  পক্ষে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা ১৯ অক্টোবর মাধবখালি ইউনিয়নের শিশুর বাজারে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য যান। এসময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে। এতে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।

সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালে  ২১ সেপ্টেম্বর জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ মহসিন বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় ৬২ জনের নামে একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো আসামি করা হয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *