কলাপাড়া হেলিপ্যাডে ৪০ লাখ টাকায় শিশু পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা: এমপি মোশাররফ হোসেন

রাসেল মোল্লা, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের আন্ধারমানিক নদীর তীরে অবস্থিত হেলিপ্যাড মাঠকে অব্যবস্থাপনা থেকে বের করে একটি আধুনিক ও আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে মাঠটিতে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি শিশু পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন হেলিপ্যাড মাঠ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় হেলিপ্যাড মাঠের সৌন্দর্যবর্ধন এবং শিশুদের বিনোদনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আন্ধারমানিক নদীর তীরবর্তী হওয়ায় হেলিপ্যাড মাঠটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে জায়গাটি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড, স্থানীয়দের চলাচল ও অবসর কাটানোর কাজে ব্যবহৃত হলেও পরিকল্পিত বিনোদন সুবিধা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের ঘাটতি রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর তীর ঘেঁষা বিস্তীর্ণ খোলা জায়গাটিতে কয়েকটি অস্থায়ী স্থাপনা ও বসার ব্যবস্থা রয়েছে। মাঠের বিভিন্ন অংশে অপরিচ্ছন্নতা ও অব্যবস্থাপনার চিত্রও চোখে পড়ে। তবে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও খোলা জায়গাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়ন করা হলে স্থানটি সহজেই একটি আকর্ষণীয় উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্রে রূপ নিতে পারে।

সংসদ সদস্যের উদ্যোগে প্রস্তাবিত ৪০ লাখ টাকার শিশু পার্ক বাস্তবায়িত হলে হেলিপ্যাড মাঠে শিশু-কিশোরদের বিনোদনের সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে হাঁটার পথ, বসার স্থান, আলোকসজ্জা, সবুজায়ন, পরিচ্ছন্নতা এবং নদীর তীরের পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হলে পুরো এলাকাটির সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পাবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, হেলিপ্যাড মাঠটি কলাপাড়া পৌর শহরের অন্যতম সম্ভাবনাময় স্থান। আন্ধারমানিক নদীর তীরের মনোরম পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে এখানে একটি পরিকল্পিত বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি দীর্ঘদিনের। শিশু পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা শুধু শিশুদের বিনোদনের সুযোগই বাড়াবে না, বরং শহরের সৌন্দর্য ও নাগরিক বিনোদনের পরিসরও বাড়াবে।

তারা দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পাশাপাশি নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা, মান বজায় রাখা এবং হেলিপ্যাড এলাকার সার্বিক সৌন্দর্যবর্ধন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ৩ অক্টোবর ২০২৬ হেলিপ্যাড মাঠের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দের কথা জানান।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *