কলাপাড়া পৌরসভায় পানির হাহাকার, বালুমিশ্রিত পানিতে ক্ষোভ পৌরবাসীর

রাসেল মোল্লা, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভায় সাপ্লাই পানির তীব্র সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী। বিদ্যুৎ না থাকলে পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে পৌরসভার কয়েকটি পাম্প থেকে পানির সঙ্গে বালু ওঠার অভিযোগও রয়েছে। এতে রান্না, গোসল, অজু ও দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নাগরিকদের।

কলাপাড়া পৌরসভার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের ১ মার্চ পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পৌরসভার আয়তন ৩ দশমিক ৭৫ বর্গকিলোমিটার এবং রয়েছে ৯টি ওয়ার্ড। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী পৌরসভার মোট জনসংখ্যা ১৯ হাজার ৭৮২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৯৪৪ জন এবং নারী ৯ হাজার ৮৩৮ জন।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৮৬০ জন পানির গ্রাহক রয়েছেন। পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় দুটি ৫ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার ওভারহেড ট্যাংক রয়েছে। এছাড়া পানি উত্তোলনের জন্য রয়েছে চারটি পাম্প হাউস। এর মধ্যে একটি পাম্প থেকে বালু ওঠার কারণে সেটি বন্ধ থাকার কথাও জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে কোনোভাবে পানি উত্তোলন ও সরবরাহ করা সম্ভব হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ চলে গেলে পানি সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অনেক পরিবারকে বিকল্প উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

পৌরবাসীর আরও অভিযোগ, পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় সংকট আরও তীব্র হয়। পানি সরবরাহ শাখায় থাকা জেনারেটরও সবসময় কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে পানির সঙ্গে বালু আসার অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট পাম্পগুলো দ্রুত পরীক্ষা করে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি সরবরাহ করা পানির গুণগত মান পরীক্ষা করে তা নিরাপদ কি না, নিয়মিতভাবে তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পৌরবাসীর ভাষ্য, পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ না থাকায় তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় পানি সংকট চরম আকার ধারণ করে। এতে শিশু, বয়স্ক ও সাধারণ পরিবারের সদস্যদের দৈনন্দিন কাজে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

নাগরিকদের দাবি, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার কারিগরি ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে বালু ওঠা পাম্পগুলো পরীক্ষা, পানির গুণগত মান যাচাই, কার্যকর বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কলাপাড়া পৌরসভার প্রশাসক আরিফুজ্জামান বলেন, “বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অচিরেই পানির সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।”

পৌর প্রশাসনের এমন আশ্বাসের পর দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী নাগরিকরা। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ থাকুক বা না থাকুক—পৌরবাসীর জন্য নিরবচ্ছিন্ন, পর্যাপ্ত ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *