রাসেল মোল্লা, কলাপাড়াঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভার একমাত্র উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হেলিপ্যাড মাঠ। একসময় সন্ধ্যা নামলেই বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও শিশুদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠত পুরো এলাকা। পরিবার-পরিজন নিয়ে নদীর পাড়ে নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে ছুটে আসতেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। এখন সন্ধ্যার পরও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি কম, অনেকটা নীরব ও নির্জন হয়ে পড়ে থাকে হেলিপ্যাড মাঠ।
হেলিপ্যাড এলাকাটি কলাপাড়া পৌরসভার সদর ফেরিঘাট-সংলগ্ন আন্দারমানিক নদীর তীরে অবস্থিত। নদীর মনোরম পরিবেশ, খোলা মাঠ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে একসময় এটি স্থানীয় মানুষের অবসর কাটানোর অন্যতম পছন্দের জায়গা ছিল। প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে মানুষের ভিড় জমত। শিশুদের আনন্দ-উল্লাস, তরুণদের আড্ডা এবং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর দৃশ্য ছিল নিয়মিত।
হেলিপ্যাড মাঠকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল বেশ কয়েকটি অস্থায়ী ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি, ফাস্টফুড ও বিভিন্ন খাবারের দোকান। দর্শনার্থীদের আনাগোনায় এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরও ভালো বেচাকেনা হতো। কিন্তু বর্তমানে দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় দোকানগুলোতে আগের মতো ক্রেতা আসছেন না। ফলে অনেক দোকানিকে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে। এতে তাঁদের দৈনন্দিন আয়েও প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়দের মতে, হেলিপ্যাড মাঠের অন্যতম সমস্যা পর্যাপ্ত আলোর অভাব। সন্ধ্যার পর পুরো এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই মানুষের চলাচল ও বিনোদনের পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বসার ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা বাড়ানো গেলে স্থানটি আবারও প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে, সম্প্রতি পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন হেলিপ্যাড এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে হেলিপ্যাড এলাকাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।তাঁদের দাবি, শুধু সৌন্দর্যবর্ধন নয়, হেলিপ্যাড এলাকায় পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা, বসার স্থান, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপত্তা ও শিশুদের বিনোদনের উপযোগী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নদীর তীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে পরিকল্পিত উন্নয়ন করা জরুরি।
কলাপাড়ার মানুষের কাছে হেলিপ্যাড শুধু একটি খোলা মাঠ নয়, এটি পরিবার-পরিজন নিয়ে কিছুটা সময় কাটানোর অন্যতম অবলম্বন। তাই দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে একসময়ের প্রাণচঞ্চল এই বিনোদনকেন্দ্রকে আবারও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর করে তোলার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




