মির্জাগঞ্জ(পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃপটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে কাগজপত্রে শাশুড়ি বুলবুল বেগমকে ভূমিহীন সাজিয়ে মুজিববর্ষের ঘর নিজেই ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার বিরুদ্ধে। ৪ বছর যেতে না যেতেই আবার সেই ঘর ভেঙ্গে প্রশস্থ করে আলিশান ভাবে ঘর নির্মাণ করছেন ওই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে।
ওই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার নাম মো.রুমান মৃধা। তিনি মজিদবাড়িয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি এবং ওই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামীলীগ সরকার মুজিববর্ষ উপলক্ষে জমি নেই, ঘর নেই যার এমন পরিবারকে উপহার হিসেবে গৃহ নির্মাণ করে দেন। এতে উপজেলায় ৩৭২ টি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রথম ধাপের গৃহ নির্মাণে ১ লাখ ৭২ হাজার ও দ্বিতীয় ধাপে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে বুলবুল বেগমকে ভুমিহীন সাজিয়ে একটি ঘর বরাদ্দ নেয়া হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে পাকা সড়কের পাশে বুলবুল বেগমের নামে দেওয়া মুজিববর্ষের ঘর ভিতরে রেখে উপরে এবং চারপাশে আরো ইট বালি সিমেন্ট ব্যবহার করে প্রশস্থ করে বিশাল আকাড়ের ঘর পুনঃ নির্মাণ করা হচ্ছে। এ সময় খালেক হাওলাদার নামে একজন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। ঘরের ভিতরে অন্য কোন লোকজন নেই। জানতে চাইলে তিনি জানান বুলবুল বেগমের ছোট জামাতা সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা রুমান মৃধা এ ঘর পুনঃ নির্মাণ করছেন।
মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামের একাধিক বাসিন্দা বলেন, মুজিব বর্ষের ঘর পাওয়ার কথা ভূমিহীনদের। কিন্তু বুলবুল বেগমের নামে কিভাবে এ ঘর বরাদ্দ হয়। বুলবুল বেগমের স্বামী সানু হাওলাদার এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যাক্তি ছিলেন। তার অনেক জমিজমাও ছিল। সানু হাওলাদারের কোন ছেলে সন্তান ছিলনা। মৃত্যুর আগে তিনি কিছু জমি বিক্রি করেছেন। বাকী জমি মেয়েদের নামে লিখে দিয়ে গেছেন।
তার পাঁচটি মেয়ে সবাই স্বাবলম্বি । বড় মেয়ে শিমুল বেগমের স্বামী পুলিশে চাকরি করেন। দ্বিতীয় মেয়ে শিল্পি আক্তারের স্বামী ঢাকা মেডিকেলে চাকরি করেন। তৃতীয় মেয়ে সিমা বেগমের স্বামী দীর্ঘদিন প্রবাসী। চতুর্থ মেয়ে মঞ্জু আক্তারের স্বামী একটি এনজিওতে চাকরি করেন। আর ছোট মেয়ে পপি আক্তার এনজিওতে (আশা) চাকরি করেন। তার স্বামী রুমান মৃধা (বর্তমান ইউপি সদস্য)।
এলাকাবাসি আরো বলেন, রুমান মৃধা তার শাশুড়ির নামে মুজিববর্ষের ঘর বরাদ্দ পাওয়ার জন্য তার বাবা হালিম মৃধার মাধ্যমে২ শতাংশ জমি জেলা প্রশাসকের নামে দলিল করে দেন। জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে সেই জমি শাশুড়িকে ভূমিহীন বানিয়ে তার নামে মুজিববর্ষের ঘর বরাদ্দ আনেন। সেই ঘর চার বছর পর তিনি এখন চার পাশে ও উপরে ইট দিয়ে বড় করে নিজে থাকার জন্য প্রস্তুত করছেন। রুমান মৃধার শাশুড়ি বুলবুল বেগম বর্তমানে স্বামীর রেখে যাওয়া ঘরেই বসবাস করছেন।
এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য রুমান মৃধা বলেন, মেম্বার হওয়ার এক বছর আগে আমার শাশুড়ি মুজিববর্ষের এ ঘরটি পেয়েছে। বিধবা মহিলা ছেলে সন্তান নেই। আমরাই তার দেখাশুনা করি। মুজিববর্ষের ঘর দুইবছর পর সংস্কার করার নিয়ম আছে। আমরা মেয়ে জামাইরা সকলে মিলে ঘরটি সংস্কার করে দিচ্ছি। সরকারকে জমি দিয়া ঘর আনছি, এ ঘর আর নিয়া যাইতে পারবেনা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.ইলিয়াস হোসেন বলেন, মুজিবর্ষের ঘর নির্মাণের সময় আমি এ উপজেলায় ছিলাম না। তবুও বিষয়টি তদন্তকরে দেখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।




