মোহাম্মাদ নুরুজ্জামানঃ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনেক উত্থান-পতন, সংগ্রাম ও পরিবর্তনের অধ্যায় রয়েছে। সেই দীর্ঘ যাত্রাপথে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাম একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে অস্বীকার করার উপায় নেই। তিন দশকের বেশি সময় দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এই নেত্রী আজ গুরুতর শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। তাঁর অসুস্থতা রাজনৈতিক সমীকরণ ছাড়িয়ে এখন হয়ে উঠেছে সর্বজনীন মানবিক উদ্বেগ।
স্বাস্থ্যগত সঙ্কট কখনোই কেবল ব্যক্তিগত সীমারেখায় আটকে থাকে না—বিশেষত যখন সেই ব্যক্তি রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন। খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের সহানুভূতি তাই শুধু তাঁর রাজনৈতিক সমর্থকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানবিক বিবেচনায় বহু মানুষই তাঁর সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন।
আজকের উত্তপ্ত রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশ বিভক্ত মতাদর্শ, আদর্শিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসে আচ্ছন্ন। তবু একজন অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা ও সুস্থতার প্রশ্ন কোনো দল বা অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত নয়। মানবিকতার বিচারবোধই এখানে মুখ্য। রাজনৈতিক মতাদর্শ মানুষের হৃদয়ের অনুভূতিকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে না—এটাই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পরিচয়।
রাজনীতির অস্থিরতার মধ্যেও একটি সত্য স্পষ্ট—নেতারা জাতির সম্পদ। তারা সুস্থ থাকলে জাতি লাভবান হয়; অসুস্থ হলে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেই পড়ে। তাই খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য-সঙ্কট আমাদের সবাইকে মনে করিয়ে দেয় যে রাজনীতি ক্ষমতার লড়াই হলেও, মানবিকতার মাঠে আমরা সবাই একই দিকে দাঁড়াই।
আজ যখন নানান জাতীয় ইস্যুর ঘূর্ণিপাকে দেশ ঘুরপাক খাচ্ছে, তখন খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনা একটি শান্ত, অরাজনৈতিক অনুভূতির স্থান তৈরি করেছে। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হচ্ছে ঘরে, মহল্লায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের সর্বত্র। এটি প্রমাণ করে—মানুষের হৃদয়ে এখনো মানবিকতার জায়গা অটুট।
খালেদা জিয়ার সুস্থতা নিয়ে মানুষের যে উদ্বেগ ও প্রার্থনা দেখা যাচ্ছে, তা আমাদের সম্মিলিত বোধকে আরও শক্তি দেয়। বিরোধিতা থাকবে, ভিন্নমত থাকবে—কিন্তু অসুস্থতার সামনে মানবিকতার আহ্বানই সবচেয়ে শক্তিশালী।
আমরা খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। মানবিকতার এই আহ্বানই আজ দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অভিন্ন কণ্ঠস্বর।জাতির অভিন্ন প্রার্থনা—সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন খালেদা জিয়া।
প্রকাশক ও সম্পাদক।




