কাঠালতলী, মির্জাগঞ্জ তথা পটুয়াখালী ছিল একটি ঝিমিয়ে পড়া জনপদ। যার দৃপ্ত পদচারণায় এই জনপদ আলোকিত এবং মুখরিত হয়েছে, তিনি এই অঞ্চলের সর্বস্তরের ভালোবাসার মানুষ এভিএম আলতাফ হোসেন চৌধুরী।
জেলাশহর পটুয়াখালীসহ যেখানে যোগাযোগের একমাত্র উপায় ছিল ছোট লঞ্চ কিংবা নৌকা, সেখানে জেলার সাথে প্রতিটি উপজেলাসহ ইউনিয়ন এবং গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত পিচঢালা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনে এসেছে নতুন স্পন্দন। নিজের বাড়ির সামনে থেকে যে কেউ যখন তখন পছন্দমত পরিবহন নিয়ে পৌঁছে যেতে পারে কাঙ্খিত গন্তব্যে; বাস, মোটরবাইক কিংবা রিক্সায়।
গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার আলো। রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নের ফলে স্কুল এবং কলেজগামী শিক্ষার্থীরা যেমন স্বচ্ছন্দে স্কুল – কলেজে যেতে পারে, তেমন বিভিন্ন পেশাজীবিরাও নিজ কর্মস্থলে অল্প সময়ে আরামে পৌঁছাতে পারেন। ব্যাবসায়ীদের জিনিসপত্র পরিবহন অনেক সহজ হয়েছে। উন্নয়নের ঝলক পৌঁছে গেছে প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায়।
এ মহাউন্নয়নের রূপকার এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। তার হাত ধরেই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের উন্নয়নধারায় যুক্ত হতে পেরেছে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে। নিজ এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ডে তাকে দিনরাত অপরিমেয় পরিশ্রম করতে হয়েছে।
বিমান বাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় তিনি নিজ মেধা এবং কর্মদক্ষতায় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও বানিজ্য মন্ত্রী হিসেবে সততা, দক্ষতা ও নৈতিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। সন্ত্রাস ও বিশৃংখলা দমনে নিজের দলের লোকদেরও ছাড় দেন নাই। প্রয়াত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার অত্যন্ত পছন্দের মানুষ ছিলেন। ‘ রতনে রতন চিনে’ প্রবাদ বাক্যটি এক্ষেত্রে যথার্থ প্রতীয়মান হয়েছে।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল, যা আওয়ামীবেল্ট হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে জাতীয়তাবাদের প্রসার ঘটিয়েছেন। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময়ে তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা হামলা-মামলাসহ জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। বিগত স্বৈরাচারী হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে শতভাগ সক্রিয় ছিলেন। তাকে বার বার কারাগারে প্রেরন সহ ২১ মাসের সাজা দিয়েছিলো অবৈধ হাসিনা সরকার। আওয়ামী লীগের শত প্রলোভনও আলতাফ চৌধুরীকে তার আদর্শ থেকে একচুল বিচ্যুত করতে পারেনি।
দীর্ঘ কন্টকময় পথ পাড়ি দিয়ে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে জনতার সমর্থনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।
তিনি একজন জাতীয় বীর, রাষ্ট্রের অমূল্য সম্পদ। তার পদচারণায় এলাকার সাধারণ মানুষের মন আনন্দে উদ্বেলিত হয়।
রাষ্ট্র বর্তমানে এক ক্রান্তিলগ্ন পার করছে। এই সময়ে তার মত উচ্চশিক্ষিত, বিদগ্ধ এবং সুঅভিজ্ঞ মানুষের ভূমিকা দেশের মানুষের জন্য আশীর্বাদ। অত্র অঞ্চলের মানুষ সর্বদা ভালোবেসে তার পাশে থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পটুয়াখালী তথা দক্ষিনাঞ্চলের জনতার প্রানের দাবী আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করে দক্ষিনাঞ্চল তথা বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ দিন।
আয়শা বেগম
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও গবেষক।




