রাসেল মোল্লা, কলাপাড়া (পটুয়াখালী): পর্যটননগরী কুয়াকাটার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে চলছে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি এবং নির্মাণকাজের গুণগত মান যাচাই করতে চলমান উন্নয়নকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক সহকারী কমিশন (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি পৌরসভার ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে আরডি-২ প্রকল্পের আওতায় চলমান ৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সড়কের নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা, কাজের অগ্রগতি এবং সার্বিক বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
এ ছাড়া হোটেল নীলাঞ্জনা থেকে লাইট হাউস পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ মিটার ড্রেন নির্মাণ প্যাকেজের চলমান কাজও পরিদর্শন করেন তিনি। ড্রেন নির্মাণের কাজ কতটুকু এগিয়েছে এবং নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন পৌর প্রশাসক।
পরিদর্শনকালে প্রশাসক ইয়াসিন সাদেক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি নির্মাণকাজে গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি কোনো ধরনের অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজ যাতে না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশনা দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে জনগণের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার জন্যও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কুয়াকাটা পৌর এলাকার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের চলাচল আরও সহজ হবে। অন্যদিকে ড্রেন নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হবে।
পর্যটননির্ভর কুয়াকাটায় আধুনিক সড়ক যোগাযোগ ও উন্নত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিদিন এসব সড়ক ও অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করতে হয়।
পরিকল্পিত নগরায়ণ, উন্নত নাগরিক সেবা এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুয়াকাটা পৌরসভার চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে প্রকল্পগুলো যথাসময়ে শেষ করা গেলে আধুনিক ও বাসযোগ্য পর্যটননগরী হিসেবে কুয়াকাটার সৌন্দর্য ও গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।




