মোহাম্মাদ নুরুজ্জামানঃ একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তির মধ্য দিয়ে ইতিহাস আজ আরও এক মহান অধ্যায়কে গভীর শ্রদ্ধা ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে স্মরণ করছে। বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে যিনি দীর্ঘদিন দৃঢ় অবস্থান নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যিনি সংকটের সময় সাহসিকতার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন—তিনি হলেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর প্রস্থান কেবল একজন ব্যক্তির বিদায় নয়, এটি একটি যুগের অবসান, একটি রাজনৈতিক ধারার স্মৃতিচারণা।
বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন; তিনি ছিলেন সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় তাঁর দৃঢ় অবস্থান তাঁকে আলাদা মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। ক্ষমতার রাজনীতিতে থেকেও তিনি বহুবার নির্যাতন, অবিচার ও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন, কিন্তু মাথা নত করেননি। এই অনমনীয়তা তাঁকে কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে দিয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনকালে তিনি যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছেন, সেগুলোর প্রভাব দেশ ও জাতির অগ্রযাত্রায় সুদূরপ্রসারী। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, কারাবরণ ও শারীরিক অসুস্থতার মধ্য দিয়েও তিনি যে ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তা একজন নেতার চরিত্রকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
আজ কোটি মানুষের দোয়া ও প্রার্থনা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় একত্রিত হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে মানুষ স্মরণ করছে একজন সংগ্রামী নেত্রীকে, যিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আদর্শ ও বিশ্বাসে অটল ছিলেন। এই সম্মিলিত দোয়া প্রমাণ করে—নেতৃত্ব কেবল ক্ষমতার আসনে বসে অর্জিত হয় না; নেতৃত্ব গড়ে ওঠে ত্যাগ, সাহস ও মানুষের ভালোবাসা দিয়ে।
জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করবে—আজ, আগামীর বাংলাদেশেও। ইতিহাসের পাতায় বেগম খালেদা জিয়ার নাম লেখা থাকবে একজন দৃঢ়চেতা নারী নেত্রী হিসেবে, যিনি সংকটের সময় পথ দেখিয়েছেন, সংগ্রামের ভাষা শিখিয়েছেন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবেন।
একটি অধ্যায় শেষ হলো, কিন্তু তাঁর আদর্শ, স্মৃতি ও সংগ্রাম রয়ে যাবে জাতির চেতনায়—আজীবন।
প্রকাশক ও সম্পাদক।




