রাসেল মোল্লা কলাপাড়া (পটুয়াখালী): বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষন বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘সাংবাদিকদের জন্য আগামী দিনগুলো অনেক চ্যালেঞ্জের। কেননা পাঠক বস্তুনিষ্ঠতা, সত্যতা জানতে চায়। যদি আপনি সেটি প্রমান করতে না পারেন, তাহলে আপনি টিকে থাকতে পারবেন না। গনমাধ্যম এখন এই যুগে এতো বেশী শক্তিশালী যেকোন দেশের সরকারকে নাড়িয়ে দিতে পারে। যেকোন দেশে একটা টালমাটাল অবস্থা তৈরী করতে পারে। কারন গনমাধ্যম দেশের থার্ড আই। গত ৫ আগষ্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনে হয়তো শেখ হাসিনার পতন হয়েছিল। কিন্তু তার পতনের গোড়া পত্তন করেছিল সাংবাদিকরা। একটি রিপোর্ট শেখ হাসিনা সরকারকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, যেমন গোপালগঞ্জে শেখ হাসিনার বাড়ীর কাছেই হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল করে আইজিপি বেনজিরের রিসোর্ট তৈরীর প্রতিবেদন। এছাড়া সোশাল মিডিয়ায় নারায়নগঞ্জে সেভেন মার্ডারের তথ্য শেখ হাসিনার সরকারকে জনতার কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে দিয়েছিল।- এবিএম মোশাররফ বুধবার দুপুরে কলাপাড়া অডিটোরিয়ামে কলাপাড়া রিপোর্টার্স ক্লাবের ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
প্রতিণ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন কমিটির সভাপতি আরিফ সিকদারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রাসেল মোল্লার সঞ্চালনায় এবিএম মোশাররফ আরও বলেন, ‘গনমাধ্যম সরকারের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। বস্তুনিষ্ঠ, স্বচ্ছ সাংবাদিকতা দেশের পরিবর্তনে, অন্তর্ভূক্তিমূলক সমাজ গঠনে সহায়তা করে। দেশের সমস্যা, সম্ভাবনা, অনিয়ম, সংকট চমৎকার ভাবে তুলে দেয় সংবাদ পত্র। আপনি যদি মুক্ত সাংবাদিকতায় বিশ্বাস না করেন, অবাধ তথ্য প্রবাহে ভয় পান তাহলে আপনি কার্যকর সমাজ ব্যবস্থা বিনির্মান করতে পারবেন না। প্রথম আলো ও ডেইলী ষ্টারে হামলার ঘটনা কিন্তু মানুষ ভালো ভাবে নেয়নি। ‘
প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার, পৌর বিএনপি’র সভাপতি গাজী মো. ফারুক, সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সী, উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোফরান বিশ্বাস পলাশ,রিপোর্টার্স ক্লাবের আহবায়ক এস কে রঞ্জন, টেলিভিশন জার্নালিষ্ট ফোরোমের সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন বিপু প্রমূখ।
এর আগে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর বর্নাঢ্য রেলী শহর প্রদক্ষিন শেষে আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠানে মিলিত হয়। এসময় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের ক্রেষ্ট প্রদান ও উত্তরীয় পরিয়ে দেন রিপোর্টর্স ক্লাব নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠান।




