রাসেল মোল্লাঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে আলোচিত কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসাকে আটক করেছে এসআরবি। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কলাপাড়া পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চায়না গার্ডেনের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি পটুয়াখালী-৮-এর একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় তাকে কলাপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আটক তাইজুল ইসলাম মুসা উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মনসাতলী এলাকার বাসিন্দা। এর আগে গত ৩১ অক্টোবর এ ঘটনায় কিশোরীর সৎ বাবা মেহেদী হাসান রিয়াজ কলাপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মুসাকে প্রধান আসামি করে তার স্ত্রী ফাহিমা বেগমসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, কর্মস্থলের কারণে মেহেদী হাসান রিয়াজ বরিশালের রূপাতলীতে বসবাস করেন। অন্যদিকে, তার স্ত্রী ও প্রথম পক্ষের কিশোরী মেয়ে কলাপাড়া পৌরসভার নাচনাপাড়া মদীনা বাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। প্রায় ১৪ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই কিশোরী তার সৎমায়ের সঙ্গে সেখানে বসবাস করছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কিশোরী অসুস্থ থাকায় পরিবার বিভিন্নভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করছিল। এ সময় পূর্বপরিচিত অসিম গাজীর মাধ্যমে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। চিকিৎসার কথা বলে মুসা কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে ধারণ করা ভিডিও দেখিয়ে কিশোরীকে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে মুসার বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে কিশোরী ও তার মা বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে অভিযুক্তরা ভিডিওগুলো মুঠোফোন থেকে পেনড্রাইভে সংরক্ষণ করে তাদের বাড়িতে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, বিষয়টি প্রকাশ না করতে কিশোরী ও তার মাকে হুমকি দেওয়া হয়। অন্যথায় অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এতে পরিবারটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেছেন কিশোরীর বাবা।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এসআরবি পটুয়াখালী-৮-এর সদস্যরা কবিরাজ মুসাকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছেন। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।




