ত্যাগীদের বঞ্চিত করে পকেট কমিটি ; মির্জাগঞ্জে যুবদলের পদবঞ্চিতদের ঝাড়ুমিছিল

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা যুবদলের নতুন আংশিক কমিটিতে বিতর্কিত ও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও ঝাড়ুমিছিল করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। কমিটি বাতিল করে দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা ত্যাগী ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে মির্জাগঞ্জ উপজেলা সদরে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ ও ঝাড়ুমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ও দুমকী উপজেলা যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে মির্জাগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি করা হয়েছে গাজী রাশেদ শামসকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে গাজী আতাউর রহমানকে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী এক মাসের মধ্যে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে তা কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও ঝাড়ুমিছিল বের করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া উপজেলা যুবদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে তারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অথচ নতুন কমিটিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে ব্যবসায়ী ও মাদক মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, নির্যাতিত হয়েছি। অথচ ব্যবসায়ী ও মাদক মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করে যদি পকেট কমিটি দেওয়া হয়, তাহলে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনীতি পঙ্গু হয়ে পড়বে।’

বিক্ষোভকারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা দলের দুঃসময়ে মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, মামলা-মোকদ্দমা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মসূচি পালন করেছেন, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

তাদের দাবি, ঘোষিত কমিটি পুনর্বিবেচনা করে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাদের বাদ দিয়ে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের নেতৃত্বে আনার দাবি জানান তারা।

পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা আরও বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা যদি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে একতরফাভাবে কমিটি অনুমোদন করেন, তাহলে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত ঘোষিত কমিটি বাতিল করে নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তারা।

তবে নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

বিক্ষোভ ও ঝাড়ুমিছিল শেষে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা দ্রুত কমিটি বাতিল করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় যুবদলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *