আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে (মিডটার্ম ইলেকশন) প্রত্যাখ্যাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটগণনা শুরুর লগ্ন থেকেই এগিয়ে আমেরিকার বিরোধী শিবির ডেমোক্র্যাটরা। যত সময় গড়িয়েছে জয়ের ব্যবধান বাড়িয়েছে তারা। মূলত ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনগুলিতে ‘চাপ’ বাড়িয়েছে ডেমোক্র্যাটরা! এখনও পর্যন্ত নির্বাচনের যা ফলাফল, তা থেকে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষই (সেনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টিটিভস) ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। সেনেটের দখল পুরোপুরি নিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টিটিভসের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন ছুঁয়ে ফেলে। যদিও পুরো ফলাফল প্রকাশ হতে বুধবার সন্ধ্যা (স্থানীয় সময়) গড়িয়ে যেতে পারে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
বিবিসি-র দেওয়া ভোটগণনার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রিপাবলিকানদের দখলে থাকা সেনেটের ৬টি আসন জিতে নিল বিরোধী শিবির। সেনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন ৫০ পেরিয়ে গিয়েছে তারা। যদিও শেষপর্যন্ত ক’টা আসন ডেমোক্র্যাট ছিনিয়ে নিতে পারবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। বেলা গড়ালে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। প্রাথমিক প্রবণতায় উচ্ছ্বসিত ডেমোক্র্যাট শিবির। শুধু মার্কিন কংগ্রেস নয়, আমেরিকার প্রদেশগুলির (স্টেট) গর্ভনর পদ দখলেও এগিয়ে তারা।
যদিও মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রথমে অনেকটাই ‘নিষ্প্রভ’ ছিলেন ট্রাম্প। ভোটগ্রহণ পর্ব চলার মধ্যেই ডেমোক্র্যাটদের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিলেন তিনি। ‘সিবিএস নিউজ়’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সুরে জানান, নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, আমেরিকার রাজনীতির উপর তিনি তাঁর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন! কেন এত আত্মবিশ্বাস ট্রাম্পের? তাঁর কথায়, ‘‘আমার কাছে চূড়ান্ত ক্ষমতা রয়েছে— যাকে বলে ভেটো!’’ এ-ও জানান, ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধিরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে যদি তাঁকে ‘মিস্টার ভেটো’ বলে সম্বোধন করা হয়, তবে তাতেও তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে আগামী দু’বছর তাঁর প্রশাসনের নীতিগুলি বাস্তবায়িত করার জন্য যথেষ্ট সুযোগ থাকবে। ট্রাম্প মনে করেন, তাঁর ‘ভেটো’ ক্ষমতা শেষপর্যন্ত ডেমোক্র্যাটদের দীর্ঘস্থায়ী আইন প্রণয়নমূলক সংঘাতের পথ থেকে সরে আসতে বাধ্য করবে। বরং আলোচনার দিকে ঠেলবে! যদিও পরে নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই কিছুটা সুর নরম করেন ট্রাম্প। তাঁর মুখে শোনা যায়, ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার কথা।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতোই চার বছর অন্তর আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি এবং নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভসের ৪৩৫টি সাধারণ আসনের সব ক’টিতেই ভোটগ্রহণ হয়েছে। সেই সঙ্গে ভোটগ্রহণ হয়েছে হাউস অফ রিরিপ্রেজ়েন্টিটিভসের ‘ভোটদানের ক্ষমতাহীন’ ৬টি আসনের মধ্যে ৫টি এবং ৩৬টি প্রদেশ (স্টেট) আর ৩টি টেরিটরির গভর্নর পদে। বেলা ১২টা নাগাদ (ভারতীয় সময়) ফলাফলের সিএনএন জানিয়েছে, হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভসের ২২০টি আসনে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা। রিপাবলিকানরা এগিয়ে ১২৬টি আসনে।
বর্তমানে হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টিটিভসে রিপাবলিকানদের হাতে ২১৮ এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি আসন রয়েছে। অন্য দিকে, সেনেটে ডেমোক্র্যাট শিবিরের ৪৭টি এবং রিপাবলিকানদের ৫৩টি আসন রয়েছে। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে গেলে হাউসে ডেমোক্র্যাট শিবিরকে চারটি আসন বাড়াতে হবে। আর সেনেটের জন্য প্রয়োজন ৩টি আসন। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠতার লক্ষ্যে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে যদি বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবির কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তা হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার তাদের সমর্থন ছাড়া ওই কক্ষে কোনও আইন পাস করতে পারবে না। আগামী দু’বছর চাপের মধ্যে সরকার চালাতে হবে ট্রাম্পকে। ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে দুঃসংবাদ হবে, তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে তদন্ত শুরু করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। বিভিন্ন নথিপত্র ও সাক্ষীদের তলব করতে পারবেন। এমনকি, শুরু করতে পারবেন তৃতীয় বার ট্রাম্পকে বরখাস্ত (ইমপিচ) করার সাংবিধানিক প্রক্রিয়াও!




