মাঠে জোয়ার তুলতে ইসলামী আন্দোলনকে দরকার, কিন্তু ভাগ দিতে নারাজ জামায়াত

আসলে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে সমঝোতার বাধাটা পুরোপুরি সংখ্যাতত্ত্বের মধ্যেও না। শুরুতে যেহেতু এনসিপি ছিল না, ১২০ আসনের একটা চাহিদা তাদের ছিল। এর মধ্যে জামায়াত একক সিদ্ধান্তে এনসিপিকে নেওয়ার পরও সমঝোতার স্বার্থে সেটা ৭০ পর্যন্ত নামিয়ে এনেছিল আইএবি। এমনকি ৪৫-৫৫ তেও তারা মানতে রাজি হওয়ার কথা। সমস্যা দাঁড়িয়েছে ভিন্ন জায়গায়।

সমস্যাটা হল ইসলামী আন্দোলনের জন্য যে সংখ্যক আসন রাখা হয়েছে, তার মধ্যেও ১৫-১৬ টা আসন নিয়ে জামায়াত-এনসিপির সাথে ভেজাল লেগে আছে। ওই আসনগুলোতে তারাও চাচ্ছে। একে তো মোট আসন সংখ্যা ৪৫ এ নামল, আবার যদি চাহিদার ১৬ টাও মিস করে, তাহলে তাদের ভাগে লড়াই করার মত ৩০ আসনও তো থাকল না। আমি দুইটা উদাহরণ দেই শুধু। লক্ষ্মীপুর-১ আসনে চরমোনাইয়ের প্রার্থী আর জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে টক্কর। চরমোনাইয়ের প্রার্থী জাকির পাটোয়ারী ভাই বের হয়ে আসার মত। সেখানে দেওয়া হয়েছে এনসিপির এমন একজনকে, যে নূন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করতে পারবে কিনা সন্দেহ। আবার ঢাকা-৫ আসন উন্মুক্ত তথা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। যেখানে চরমোনাইয়ের প্রার্থী সাবেক দুইবারের কমিশনার ইব্রাহিম ভাই।

যেহেতু জামায়াত তাদের নিজস্ব অনেকগুলো আসনে চরমোনাইয়ের ভোটের মুখাপেক্ষী এবং জোটের বাকিদের তুলনায় চরমোনাইয়ের ভোটব্যাঙ্ক বেশি ও সর্বত্র, সেহেতু তাদের সাথে আগে আসন নেগোসিয়েশন করে পরে অন্যদের সাথে ডিল করা ছিল বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু জামায়াত সবার আগে নেগোসিয়েশন করেছে এনসিপির সাথে, আবার তাদেরকে জোটেও নিয়েছে অন্যদের সাথে পরামর্শ না করে। এদিকে প্রধান সঙ্গী ইসলামী আন্দোলনের সাথে খেলেছে কূটনীতি।

বিষয়টা যেন এমন। মাঠে জোয়ার তৈরির জন্য তোমাকে দরকার, কিন্তু তোমাকে আমার রাজত্বে ভাগ বসাতে দিতেও রাজি না। অন্যদিকে আমার ছোট ভাই এনসিপির রাজনীতি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার দায়িত্বও আমার।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *