প্রবাসীর ভোট, প্রতিশ্রুতির রাজনীতি ও বাস্তবতা

জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের অবদান যেমন অপরিসীম, তেমনি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও প্রবাসীদের ভোট একটি শক্তিশালী প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি থাকলেও নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতি অনেক সময় বাস্তবায়নের আলো দেখে না।

এ কারণে প্রবাসীদের উচিত আবেগ বা দলীয় আনুগত্যের বাইরে গিয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া। নিজ নিজ সংসদীয় আসনের প্রার্থীর কাছ থেকে স্পষ্টভাবে নিজের পরিবার, স্বজন ও এলাকার মানুষের সমস্যা সমাধান, উন্নয়ন ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি আদায় করেই ভোট দেওয়া প্রয়োজন। শুধু আশ্বাস নয়—প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা, প্রার্থীর অতীত ভূমিকা ও জনসংযোগও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, নির্বাচনের পর অধিকাংশ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে সীমিত পরিসরের নেতা-কর্মীরা। অথচ যাদের ভোটে তারা নির্বাচিত হন, সেই সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে প্রবাসীদের পরিবার ও এলাকা—অনেক সময় অবহেলিতই থেকে যায়। এই বৈষম্য গণতন্ত্রের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

প্রবাসীরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে প্রশ্ন করেন, প্রতিশ্রুতি চান এবং তার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করেন, তবে জনপ্রতিনিধিরাও দায়িত্বশীল হতে বাধ্য হবেন। ভোট কেবল একটি অধিকার নয়, এটি জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার শক্তিশালী হাতিয়ার। সেই শক্তির যথাযথ ব্যবহারই পারে অবহেলিত মানুষ ও এলাকার ভাগ্য পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে।

মোহাম্মাদ নুরুজ্জামান 

প্রকাশক ও সম্পাদক।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *