সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে—রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা, ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা কতটা জরুরি। রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত এবং অনিশ্চয়তা যখন সমাজের নানা স্তরে প্রভাব ফেলে, তখন তার অভিঘাত সবচেয়ে বেশি পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে। এমন পরিস্থিতি আমাদের ভাবতে বাধ্য করে—রাষ্ট্রীয় কাঠামো কতটা কার্যকর, এবং সেটিকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ কোথায়।
এই বাস্তবতায় সামনে আসা গণভোট কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ভোট নয়; এটি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকনির্দেশ নির্ধারণের সুযোগ। একটি শক্তিশালী, ভারসাম্যপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক শাসন কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া মানে হলো—
- ক্ষমতার সুষম বণ্টনের প্রতি সমর্থন জানানো।
- গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা।
- রাজনৈতিক সংঘাত কমিয়ে স্থিতিশীলতার পথে অগ্রসর হওয়া।
- এবং জনগণের মতামতের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা।
এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন গণভোট কেবল একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; এটি জনগণের মতামত জানানোর এক গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক সুযোগ। প্রস্তাবিত সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া মানে হবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাওয়া—যেখানে ক্ষমতার সুষম বণ্টন, কার্যকর জবাবদিহিতা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা নিশ্চিত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
গণতন্ত্রের শক্তি নিহিত থাকে জনগণের অংশগ্রহণে। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই কর্তব্য রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের কথা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। গণভোট সেই সুযোগ এনে দিয়েছে—নিজেদের মতামত জানানোর, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে তোলার।
রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এই মুহূর্তে একটি দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তই পারে আস্থা জাগাতে, ঐক্য গড়তে এবং উন্নয়নের পথ সুদৃঢ় করতে।
আজ প্রয়োজন সচেতন অংশগ্রহণ এবং ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। তাই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার প্রত্যাশায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানোই সময়ের দাবি।
মোহাম্মাদ নুরুজ্জামান
প্রকাশক ও সম্পাদক ।




