রাসেল মোল্লা, পটুয়াখালী।। পটুয়ালীর রাঙ্গাবালীতে বিএনপির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলাম শামীমের মেয়ে ফারহানা ইয়াসমিন শীলার রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় শত শত নারী-পুরুষ। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে মানববন্ধন শেষে তাঁরা রাঙ্গাবালী থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা শীলার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সমাবেশে স্থানীয় নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য দেন। এ সময় এক নারী তাঁর বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি রহমান ফরাজী ও উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব নিয়াজ আকনকে জড়িয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সমাবেশে আলোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
গত ৩০ অক্টোবর ফারহানা ইয়াসমিন শীলার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শুরু থেকেই এলাকায় নানা প্রশ্ন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। শীলার মৃত্যুর জন্য তাঁর স্বামী রাসেলকে দায়ী করে আসছেন পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সমাবেশে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি রহমান ফরাজীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ একজন ভদ্রমহিলাকে ভাড়া করে এনে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। ওই নারী শীলার কোনো আত্মীয় নন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। আমিও শীলার মৃত্যুর বিচার চাই।’

অন্যদিকে, শীলার স্বামী ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল মাহমুদ দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, শীলার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। কোনো প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
শীলার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাঙ্গাবালীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।




