রাসেল মোল্লাঃ আপন ঠিকানায় ফিরতে চান পথভূলে কলাপাড়ায় চলে আসা কুলসুম বেগম ওরফে শানুখালা (৭০)। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর পৌরসভার মৃত কুদ্দুস শিকদার স্ত্রী। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঝিকরগাছা উপজেলা সমাজসেবা অফিসে কর্মরত মনোয়ারা বেগম।
জানাগেছে, শানুখালা গত ১২ দিন পূর্বে ঝিকরগাছা থেকে তার পালিত নাতনির বাড়ি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় যাওয়ার জন্য রওনাহন। ঘটনাক্রমে তিনি কলাপাড়ায় এসে পৌঁছান। অনুমান করাযায় তিনি কলারোয়ার কথা বলায় বাস স্টাফ তাঁকে পটুয়াকালীর কলাপাড়ায় নিয়ে এসেছেন। গুগলের তথ্য অনুযায়ী কলাপাড়া থেকে ঝিকরগাছার দূরত্ব ২৭৭ কিলোমিটার। কুলসুম বেগম কলাপাড়ায় এসে ভ পথ হারিয়ে পথে পথে ঘুরছিলেন। এমতাবস্থায় কলাপাড়ার মানবিক সেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পাশে দাঁড়াই’ এর সভাপতি নয়নাভিরাম গাইন এর নজরে আসলে। তার কাছে নাম পরিচয় জানতে চাওয়াহয়। উত্তরে তিনি শুধু ঝিকরগাছা ব্যাতিত কিছু বলতে পারেনি। পরবর্তীতে সোসাল মিডিয়া ও বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর। তার পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্ত হয়।
পরিচয়ে জানা যায় ,তিনি ঝিকর গাছায় কৃষ্ণনগর পৌরসভায় ৪ নং ওয়ার্ডে বসবাস করতেন। তার নিজের ভিটেমাটি ও রক্তের সম্পর্ক বলতে কেউ নেই। সেখানে অন্যের বাড়িতে একটি ঝুপড়ি ঘরে থাকতেন। খাওয়া পরা চলে মানুষের সাহায্যের মাধ্যমে। এক কথায় পৃথিবীতে আপন বলতে তার কেউ নেই।
তবে স্থানীয়রা তাকে অত্যন্ত ভালো বাসেন। তাই তারা চান শানু খালা তাদের কাছে ফিরে যাক।এদিকে সংবাদটি কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আরিফুজ্জামানের নজরে আসলে তিনি যোগাযোগ করেন ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে।
এরপর সেখান থেকে আশ্রয় দাতা সেচ্ছাসেবী সংগঠন পাশে দাঁড়াই এর সভাপতি নয়নাভিরাম গাইন এর সাথে যোগাযোগ করে ঝিকরগাছা উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কর্মচারী মনোয়ারা বেগম। তিনি শানুখালার পরিচয় নিশ্চিতের পাশাপাশি তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন। এদিকে শানু খালা তার গন্তব্যে ফিরে যেতে বারবার আকুতি করছেন।
পাশে দাঁড়াই সেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে সভাপতি নয়নাভিরাম গাইন বলেন, আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে ঠিকানাহীন একটা অসহায় মানুষ কে আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু আমাদের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা আবেদন জানাই কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমাজ সেবা অফিসের মাধ্যমে শানু খালাকে তার নিজ গন্তব্যে পৌঁছে দিবে। এমনটা তাদের কাছে প্রত্যাশা।
এবিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আরিফুজ্জামান বলেন,আমি সকল বিষয়ে অবগত আছি। আমি ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। আশা করছি তার যাওয়ার ব্যাবস্থা হবে।




