রাসেল মোল্লা: অভাব আমার পথ রোধ করতে পারেনি, মানুষের ভালোবাসাই আমার শক্তি।”—এই বিশ্বাসকে বুকে ধারণ করেই দীর্ঘদিন ধরে ব্যতিক্রমী এক পথচলা অব্যাহত রেখেছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সন্তান হাসান পারভেজ।
অভাব-অনটন, প্রতিকূলতা আর সীমাহীন সংগ্রাম তাঁর জীবনের নিত্যসঙ্গী। তবুও তিনি থেমে থাকেননি। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়েও তিনি নিজের হাতে লিখে প্রকাশ করে চলেছেন ব্যতিক্রমধর্মী পত্রিকা ‘আন্ধারমানিক’। প্রান্তিক, অসহায় ও অবহেলিত মানুষের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম, সাফল্য এবং মানবিকতার গল্পই তাঁর পত্রিকার মূল উপজীব্য।
তাঁর এই অনন্য উদ্যোগ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। দৈনিক কালের কণ্ঠ, দৈনিক কালবেলা, দৈনিক জনকণ্ঠসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদপত্রে তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন ও ফিচার প্রকাশিত হয়েছে। জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-তেও তাঁর জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে এবং সেখানে তাঁকে সম্মাননা ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়।
তবে হাসান পারভেজের পরিচয় শুধু একজন হাতে লেখা পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। মানবসেবাকেই তিনি নিজের জীবনের অন্যতম ব্রত হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা নিয়ে তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।
তাঁর উদ্যোগে অনেক অসহায় পরিবার আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। অনেক গৃহহীন মানুষের জন্য ঘর নির্মাণে সহযোগিতা করা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটে থাকা এলাকায় টিউবওয়েল স্থাপনে সহায়তা করেছেন। রমজান মাসে দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও ইফতার বিতরণের ব্যবস্থাও করে থাকেন। চিকিৎসাসহ নানা মানবিক সংকটে থাকা মানুষের জন্য সহযোগিতা সংগ্রহ করেও তিনি কাজ করেন বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।
মানুষের দুঃখকে নিজের দুঃখ আর মানুষের হাসিকে নিজের প্রাপ্তি মনে করা এই মানুষটি বিশ্বাস করেন—মানবসেবাই জীবনের সর্বোচ্চ অর্জন। তাই ব্যক্তিগত অভাব-অনটনকে পেছনে ফেলে আজও তিনি ছুটে চলেছেন গ্রামের পর গ্রাম, মানুষের দুয়ারে দুয়ারে।
হাসান পারভেজ প্রমাণ করেছেন—অর্থবিত্ত নয়, আন্তরিকতা, সততা এবং মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাই একজন মানুষকে প্রকৃত অর্থে বড় করে তোলে। তাঁর হাতে লেখা ‘আন্ধারমানিক’ আজ শুধু একটি পত্রিকা নয়, এটি সংগ্রাম, মানবতা এবং স্বপ্নজয়ের এক উজ্জ্বল প্রতীক।




