বরিশালে হত্যার শিকার অনিতা, পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন

রাসেল মোল্লাঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক এইচ এম আকবার এর ছোট ভাই ( অবঃ) সেনা সদস্য কবির শাহিনের মেয়ে
সানজিদা কবির অনিতা এর লাশ তাদের গ্রামের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের তেগাছিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে শুক্রবার শেষ বিকালে জানাযা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাযায় গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে বরিশাল নগরীর বগুড়া রোড এলাকার অক্সফোর্ড মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে রাফি মঞ্জিল নামে একটি বাসা থেকে সানজিদা কবির অনিতা (১৯) নামে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত অনিতা বরিশালের একটি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রেমিক মইনুল ইসলাম হিমু (৩০) ঝালকাঠি জেলা সদরের কাটপট্টি রোড এলাকার মিল্টন আকনের ছেলে। মা চাকরি করার সুবাদে তারা নগরের বগুড়া রোড মুন্সি গ্যারেজ এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, মইনুল ইসলাম হিমু তাকে বাসায় ডেকে এনে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন। ঘটনার পর থেকেই হিমুর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

অভিযুক্ত হিমুর মা জানান, তার ছেলে ও অনিতার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে সম্প্রতি তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ঘটনার দিন সকালে তিনি অসুস্থতার কারণে বাসার বাইরে ছিলেন। পরে দুপুরে ফিরে এসে দরজা তালাবদ্ধ দেখতে পান। ভেতরে ঢুকে বিছানার ওপর অনিতার নিথর দেহ দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় হিমুর মা ফাতেমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

নিহত আনিতার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, আনিতা বের হওয়ার পর তাকে নিজ বাসায় নিয়ে যায় হিমু। এরপর সেখানে আনিতাকে হত্যা করে হিমু পালিয়ে যায়। হিমু ইতিপূর্বেও একটি মার্ডার মামলার আসামী ছিল। বখাটে ও মাদকাসক্ত হিমু পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিত ভাবে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। এ ঘটনার সাথে হিমুর পরিবারও যুক্ত থাকতে পারে বলে দাবি নিহত আনিতার পরিবারের।

নিহত আনিতা’র মামা মিশু সিকদার বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বড় বোনের বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন সানজিদা। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর বড় বোন সানজিদাকে ফোন করলে তা বন্ধ পান। পরে বিষয়টি তাঁকে (মিশু সিকদার) জানালে তিনি ফোন ট্র্যাক করে ওই বাড়ির লোকেশন (অবস্থান) পান। এরপর সেখানে গিয়ে তাঁর ভাগনিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

এলাকাবাসী এই হত্যাকারী হিমুর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবী জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *