উপজেলা প্রতিনিধি, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে প্রশাসনের ঢিলেঢালা অভিযানের সুযোগে পায়রা নদীতে মা ইলিশ শিকারের রীতিমতো মহোৎসব চলছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জেলেরা নদীতে দিন- রাত ইলিশ শিকারে ব্যস্ত । এ যেন দেখার কেউ নেই। ইলিশ কেনার জন্য নদীর পারে ক্রেতারা ভিড় করছেন। তবে পরিচিত ছাড়া কারো কাছে বিক্রি করছেন না জেলেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ,এ বছর মা ইলিশ ধরা রুখতে নিষেধাজ্ঞাকালীন প্রশাসনের তৎপরতা এতটা ঢিলেঢালা, যা নজিরবিহীন। বিগত বছরগুলোতে প্রশাসনের কড়া নজরদারি ছিল। প্রকাশ্যে এভাবে ইলিশ শিকার করতে পারত না। স্পিডবোটের শব্দ শুনলেই জেলেরা দ্রুত জাল তুলে নৌকা নিয়ে কিনারে অবস্থান করে। জেলেদের ধাওয়া না করে স্পিডবোট নদীর মাঝখানে এসে অল্প সময় ভাসমান অবস্থায় থেকে,পুনরায় চলে যায়।
জানা গেছে, মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়ন থেকে মজিদবাড়িয়া পর্যন্ত পায়রা নদীর দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। এতে রামপুর,ভিকাখালি পিপড়াখালী,মনোহরখালী, গোলখালি, চরখালি মাটিভাংগা, ভুতুম্মাসহ কমপক্ষে ১০ টি পয়েন্টে চলছে মা ইলিশ ধরার মহোৎসব। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শতাধিক জেলেরা প্রকাশ্যে ইলিশ শিকার করছে।
শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,জেলেদের ইলিশ শিকারের মহোৎসব। রামপুর থেকে ভিকাখালী পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টি নৌকায় জেলেরা মা ইলিশ শিকার করছে। ভিডিও করতে গেলে বিষয়টি টের পেয়ে নৌকার ইঞ্জিন চালু করে তারা নদীর মাঝখানে চলে যায়। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি মনে হয় তারা জানেনই না।
রামপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ জলিলুর রহমান শিকদার আমার দেশকে অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোন জোরালো অভিযান চালানো হচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞার শুরু থেকে দিন-রাতই জেলেরা নদীতে মাছ ধরেন। মৎস্য,কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশের লোকজন অভিযানে বের হওয়ার আগেই কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং ট্রলার ও স্পিডবোর্ডের মাঝিরা জেলেদের আগাম বার্তা দিয়ে দেন। এতে অভিযানের আগেই মাছ শিকার করে নৌকা নিয়ে জেলেরা নিরাপদ স্থানে চলে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু জেলেরা বলেন, নিষেধাজ্ঞা কেউই মানছে না। সবাই ধরে তাই আমরাও ধরি। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময় ইলিশ বেশি পাওয়া যায়। তবে তাদের অভিযোগ নিষেধাজ্ঞাকালীন সময় প্রকৃত জেলেরা অনুদান পান না। অন্য পেশায় যারা আছেন, তারাই বিভিন্ন উপায়ে জেলে তালিকায় নাম দিয়ে অনুদান পেয়ে যান।
পায়রাকুঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান আমার দেশকে জানান, পায়রা নদীর ৩৫ কিলোমিটারের বিশাল এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। এর মধ্যে রামপুর ও কাকড়াবুনিয়া এলাকার দূরত্ব একটু বেশি। স্পিডবোট নিয়ে সেখানে যাওয়ার আগেই জেলেরা পালিয়ে যায়। তার পরও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে নৌ-পুলিশ মা ইলিশ রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান আমার দেশকে বলেন, সার্বক্ষণিক মা ইলিশ রক্ষার জন্য অভিযান পরিচালনা করতে যে পরিমাণ লোকবল ও নৌযান প্রয়োজন, সেগুলো মৎস্য বিভাগের নেই। এ সুযোগে জেলেরা বেপরোয়া হয়ে মা ইলিশ শিকার করছেন। রামপুর এলাকায় ইলিশ শিকারের বিষয়টি জানার সাথে সাথে একটি টিম সেখানে পাঠানো হয়েছে। জনবল সংকটের কারণে শুধু একটি টিম কাজ করছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল বলেন, রামপুর ও কাকড়াবুনিয়া এলাকায় কিছু অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রামপুর এলাকায় একটি টিম গিয়ে জেলেদের ধাওয়া দিয়ে কিছু জাল উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে। মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




