৩০ লাখ টাকার নিয়োগ কেলেঙ্কারি আড়াল করতে কলাপাড়ায় গোপন কমিটি গঠনের অভিযোগ

রাসেল মোল্লা: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শূন্য পদে নিয়োগ বাণিজ্যের লক্ষ্যে একটি দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি অতি গোপনে গঠন করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ডালবুগঞ্জ নুরপুর দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নীতিমালা অনুসরণ না করেই এই কমিটি গঠন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এমন কি ওই মাদরাসার তিনটি শূন্য পদে নিয়োগ দিতে ৩০ লাখ টাকা গ্রহণ করে তা বৈধ করতেই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে সুপার আবদুল আউয়ালের বিরুদ্ধে।

এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাতার পুত্র কে এম মনিরুজ্জামান।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগে জানা যায়, এমপিও ভুক্ত নুরপুর দাখিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল আউয়াল শূন্য পদে নিয়োগ বাণিজ্য করতে ৩০ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন। আর তাই অনিয়মের মধ্য দিয়ে রেজুলেশনে তফসিল দেখিয়ে অতি গোপনীয়ভাবে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেছেন তিনি। এবং বিষয়টি ঢাকার একটি অপরিচিত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গোপন রাখা হয়।

অভিযোগে মনিরুজ্জামান উল্লেখ করেছেন, তার নিজ বাড়ির প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠাতার ছেলে হিসেবে অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত সুপারের অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়টি তাকে অবহিত করেছেন। ফলে এ বিষয়ে জানতে সুপার আউয়ালকে একাধিকবার ফোন করে জানতে চান তিনি। কিন্তু ফোনে সদুত্তর না দিয়ে প্রতিষ্ঠানে আশা বন্ধ করেন সুপার আউয়াল। এমনকি মাসে মাত্র একদিন মাদরাসায় এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে যান তিনি।

এছাড়া তার বিষয়ে কেউ মুখ খুললে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদানের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে এই সুপারের বিরুদ্ধে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় জ্যেষ্ঠ শিক্ষক পাঠদানে না আসায় অন্যান্য শিক্ষকরা প্রতিদিন এগারোটা থেকে বারোটার মধ্যে ক্লাস ছুটি দিয়ে বাড়ি চলে যান। ফলে দিন দিন ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে নুরপুর দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পুত্র কে এম মনিরুজ্জামান জানান, ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করে শূন্য পদে নিয়োগ দিতে ৩০ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন সুপার আউয়াল। এখন সেই টাকা বৈধ করে নিতে অতি গোপনীয়ভাবে বন্ধের মধ্যে মনগড়া ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেছেন তিনি। তাই এর প্রতিকার চেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

নুরপুর দাখিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল আউয়াল বলেন, আমি কোন অনিয়ম দুর্নীতি করিনি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী সকল কার্যক্রম করা হয়েছে। এছাড়া মাদরাসায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক এবং ক্লার্ক সংকট থাকায় নিয়োগের বিষয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। আমি কোন টাকা গ্রহণ করিনি।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আকরাম হোসেন খাঁন বলেন, আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *